মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্যাতনের শিকার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে সাদুল্লাপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে সেখানে জানাজা ও শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের সময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, পুলিশ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ফুলমতির মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নির্যাতনের শিকার হন। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ২০১৬ সালের মার্চ মাসে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
স্বীকৃতি পাওয়ার পরও তিনি দীর্ঘ সময় দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করেছেন। স্বামী কুশিরাম সরকার ফসিয়ার মৃত্যুর পর চার ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জীবনের শেষদিকে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং বেশিরভাগ সময় শয্যাশায়ী ছিলেন।
সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী বলেন, “ফুলমতি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী নারী। তার মৃত্যুতে আমরা একজন সংগ্রামী বীরাঙ্গনাকে হারালাম।”
তার মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।