বাসের সিট নিয়ে বিরোধ, কালকিনি-গৌরনদীর দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
সবশেষ আপডেট :
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
৭৩
জন সংবাদটি দেখেছেন
বাসের সিট নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে প্রায় ২০টি দোকান। সংঘর্ষ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের বাসিন্দা এমারত ঘরামী বরিশাল যাওয়ার জন্য ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে যান। অসুস্থতার কারণে তিনি বাসের সামনের একটি সিট চান। তবে কাউন্টারের সুপারভাইজার সিট দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের সঙ্গে এমারত ঘরামীর বাগবিতণ্ডা হয়। পরে সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির এসে এমারতকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে এমারত ঘরামী ওই কাউন্টারে গেলে ফের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ এবং মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ভূরঘাটা এলাকায় অন্তত ২০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন।
খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, বাসের টিকিট ও সিট নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।