ঘোষণার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় শহীদ আবু সাঈদের বাড়িঘর, কবরস্থান ও ফাউন্ডেশন উন্নয়নের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দের অর্থ ছাড় করেছে সরকার। সোমবার (৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ এ অর্থ অবমুক্ত করে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত অর্থ ছাড়ের চিঠি রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তা চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অর্থ অবমুক্তির চিঠি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের বিশেষ বরাদ্দ থেকে রংপুর জেলা পরিষদের অনুকূলে মোট ১ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন, তার বাড়িঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য সাইকেল সরবরাহে ৫ লাখ টাকা এবং পীরগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও কছিমন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে এডিপি বরাদ্দ ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২২ এবং প্রচলিত আর্থিক ও প্রশাসনিক বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত প্রকল্প ছাড়া অন্য কোনো খাতে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সে সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে আবু সাঈদের বাড়িঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। প্রয়োজনে আরও অর্থ বরাদ্দের আশ্বাসও দিয়েছিলেন।
ঘোষণার পাঁচ দিনের মাথায় অর্থ ছাড় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার। তারা বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, “সরকার শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছে, এটি আনন্দের বিষয়। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মানুষ এখানে এসে তার আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ইতিহাস জানতে পারবে। নতুন প্রজন্মও অনুপ্রাণিত হবে।”
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, “সরকার দেরিতে হলেও বাড়িঘর ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে, এতে আমরা খুশি। তবে এই অর্থ যেন সঠিকভাবে ব্যয় হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।”
রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিমন্ত্রী তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। সরকার চায় শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিকে ঘিরে গবেষণা ও চর্চা হোক, যাতে মানুষ অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অনুপ্রেরণা পায়।”
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, বরাদ্দ পাওয়া অর্থের যথাযথ ব্যবহারের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি প্রকল্পের নকশা ও ব্যয় প্রাক্কলন তৈরি করবে। শহীদ আবু সাঈদের বাড়ি, কবরস্থান ও ফাউন্ডেশনকে একটি স্মারক ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় রূপ দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।