ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রতীক বরাদ্দের দিনেই উন্নয়ন, সরকারি দলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভোটারদের অধিকার নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব গ্রহণের পর শূন্য হওয়া আসনটিতে আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রতীক বরাদ্দের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, অতীতে বিরোধী দলের পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না থাকলে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, তাঁর দল বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে এবং সরকারের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এলাকার মানুষের উন্নয়নের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করেন।
মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে যদি বিরোধী দলের কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তবে সরকারের সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কতটুকু এগিয়ে যাবে—তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’
এ সময় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি প্রার্থীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের যেসব এলাকায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্য রয়েছেন, সেসব এলাকায় কি উন্নয়ন বন্ধ রয়েছে?
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারের দোহাই দিয়ে কিংবা উন্নয়নের ভয় দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি দাবি করেন, নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় শূন্য হওয়া আসনটিতে উপনির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
নির্বাচন ঘিরে একদিকে বিএনপি প্রার্থী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতার বিষয়টি সামনে আনছেন। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচ প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।