বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন, ১৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬২ জন সংবাদটি দেখেছেন

মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিতে যাচ্ছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষক দল। প্রযুক্তিটি বৃহৎ পরিসরে সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বিকল্প জ্বালানি পাওয়া এবং বছরে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হতে পারে।

এ প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাইয়ে ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকল্পটির প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে গবেষকদের এ আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা এ তথ্য জানান।

প্রদর্শনীতে কুয়েটের অধ্যাপক ও প্রকল্পের গবেষক ড. মো. খালেকুজ্জামান বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এ সময় রান্নাঘরের বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে জ্বালানি তেল তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর ধরে চলা এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় বর্জ্য থেকে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য পেয়েছেন গবেষকরা।

পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্ল্যান্টে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। এ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগ করা গেলে দেশের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বিকল্প জোগান দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে পাইলট প্ল্যান্টের পরীক্ষায় উৎপাদন ব্যয়, প্রযুক্তির দক্ষতা ও অর্থনৈতিক টেকসই সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।

গবেষকদের মতে, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হলে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারে এ উদ্যোগ।

প্রকল্পটির প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com