গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পুরুষ পরিচয়ে এক নারীকে বিয়ে করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঁদনী আক্তার নামে এক নারীকে সালিশ বৈঠকে মারধর, বেত্রাঘাত ও কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে তওবা পড়ানো হয় বলেও জানা গেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কাবিননামা সূত্রে জানা যায়, চাঁদনী আক্তার নিজেকে রাসেল নামে পরিচয় দিয়ে গত ১৫ এপ্রিল হিজলগাড়ী গ্রামের লাবনী আক্তারকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশে লাবনী আক্তারকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সময় চাঁদনী আক্তারকে বেত্রাঘাত, কান ধরে ওঠবস এবং তওবা পড়ানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও সালিশে মারধর ও তওবা পড়ানোর ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সালিশ বৈঠকে উপস্থিত পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ আহমেদ জানান, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে চাঁদনী আক্তারকে তওবা পড়ানো হয়েছে।
তবে সালিশে মারধর ও বেত্রাঘাতের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।
সালিশে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা জানা যায়নি।