রংপুরের পীরগঞ্জে নকল সার, কীটনাশক ও গোখাদ্য তৈরির অভিযোগে একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ইটের গুঁড়া, মাটি, কাঠের গুঁড়াসহ বিভিন্ন উপকরণ এবং নামিদামি প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক খালি মোড়ক পাওয়া গেছে। এ সময় গোডাউনটিতে ১ হাজার ১০০ বস্তার বেশি উপকরণের সন্ধান পায় প্রশাসন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কালসার ডারা বাজারে অবস্থিত ‘মেসার্স মোখলেছুর ট্রেডার্স’-এর গোডাউনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মাইদুল ইসলাম বাবু।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোডাউনটিতে বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির বিপুলসংখ্যক খালি মোড়ক পাওয়া যায়। পাশাপাশি সেখানে মাটিভর্তি বস্তা, ডিমের খোসা, ভুট্টার ছোলা, ইটের গুঁড়া, ধানের কুঁড়া, চুন, ময়দা ও কাঠের গুঁড়াসহ বিভিন্ন উপকরণ মজুত ছিল।
গোডাউনে পাওয়া এসব উপকরণ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নকল সার, কীটনাশক ও গরুর ভূষি তৈরি করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল রানা, পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তাজুল ইসলাম এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, অভিযানে উদ্ধার করা উপকরণের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য রংপুরে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর উপকরণগুলোর প্রকৃত অবস্থা এবং নকল পণ্য তৈরির অভিযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে প্রাথমিকভাবে সেখানে নকল পণ্য তৈরি করা হতো বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেসার্স মোখলেছুর ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, অভিযানে ইটের গুঁড়া, মাটি, কাঠের গুঁড়াসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খালি প্যাকেট এবং সন্দেহজনক উপকরণ পাওয়া গেছে।
এসব উপকরণের ব্যবহার ও নকল পণ্য তৈরির অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ইউএনও আরও জানান, প্রাথমিকভাবে গোডাউনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোডাউনটি তালাবদ্ধ করে রাখার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, গোডাউন থেকে সংগ্রহ করা নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে উদ্ধার করা উপকরণ দিয়ে নকল সার, কীটনাশক কিংবা গোখাদ্য তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।