মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে নিজের নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করেন ফারুক হাসান। এ সময় তিনি বলেন, তাঁর নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তবে এটি প্রচলিত গ্রেডভিত্তিক সরকারি চাকরির মতো নয়; বরং বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দিষ্ট এলাকার কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়।
ফারুক হাসান বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দুটি প্রধান কার্যক্রম রয়েছে। একটি হলো অপারেশনাল কার্যক্রম, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। অন্যটি হলো সরকার গঠিত পরিচালনা পর্ষদ, যার কাজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি করা।
তিনি আরও বলেন, দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের কার্যক্রম যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে একাধিক সাবস্টেশন রয়েছে। তিনি কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের একজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০২৩ সালের জুনে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিভক্তির কারণে দলটির দুটি অংশ আলাদা হয়ে যায়। ওই বছরের জুলাইয়ে ড. রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান ফারুক হাসান।
পরবর্তী সময়ে ড. রেজা কিবরিয়া ‘আমজনতার দল’ গঠন করলে ফারুক হাসান মশিউজ্জামানের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের অংশে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দলটির দুই অংশের মধ্যে ঐক্যের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ফারুক হাসান নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদে যোগ দেন। সে সময় তাঁকে উচ্চতর পরিষদের সদস্য, সিনিয়র সহসভাপতি পদমর্যাদা ও দলীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ফারুক হাসান। নির্বাচনে তিনি ১ হাজার ৮৪৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাত উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড ২০০০ সালের ২৮ জুন কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। পরে ২০০৩ সালের ১ মার্চ এটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও এপিএসসিএলের মধ্যে ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রথম প্রভিশনাল ভেন্ডরস অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কমপ্লেক্স কোম্পানিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই বছরের ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানিটির কার্যক্রম শুরু হয়।
পাওয়ার স্টেশনের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নসহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কাঠামো। এতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, মানবসম্পদ ও প্রশাসন এবং অর্থ বিভাগের নির্বাহী পরিচালকেরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।