রংপুরের পীরগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার অভিযোগে দশম শ্রেণির এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতা ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক। তিনি বলেছেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর মাস্টার স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সহসভাপতি।
তাঁর মেয়ের সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুদিয়াবাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতাউর মাস্টার ও তাঁর স্বজনেরা।
তবে ওই দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শনিবার রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সাজিদকে ধরে সুজারকুঠি নামাপাড়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে তাঁর হাত রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে কিশোরটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপরও তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরের স্বজনেরা সেখানে গেলে তাঁদের গালিগালাজ করে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের কাছে কিশোরটিকে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাজিদ অভিযোগ করেছে, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁকে দীর্ঘ সময় গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে পীরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় জামায়াত নেতা আতাউর মাস্টার তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আমি জামায়াত করি। আমি ৩ নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি। ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।”
কিশোরকে মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একটু শাসন করা হয়েছে।” তবে সাজিদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এটি সাধারণ শাসনের ঘটনা নয়; তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টুকুরিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, “আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। রাতে সেখানে ছিলাম। পরে অসুস্থতার কারণে সেখান থেকে চলে এসেছি।”
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নির্যাতনের শিকার কিশোরের কয়েকজন স্বজন অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি প্রকাশ না করতে তাঁদের চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি।