শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে জেলেদের হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। অভিযানটি পরিচালিত হয় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভোরে জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর কলিকাল চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযানসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, শতাধিক জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযান পরিচালনাকারী দলের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। তাঁদের কয়েকজনের হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ছিল বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ শিকার বন্ধে সোমবার ভোরে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের শফি কাজীর মোড় এলাকা থেকে পদ্মা নদীতে অভিযান শুরু হয়।
সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেন মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
অভিযানকারী দল পালেরচর ইউনিয়নের কলিকাল চর এলাকায় পৌঁছালে একদল জেলে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হন।
ঘটনার সময় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছুটা দূরে একটি স্পিডবোটে অবস্থান করছিলেন।
হামলার পর পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা অভিযুক্তদের ধাওয়া করেন।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শফি কাজীর মোড় থেকে পালেরচর পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগে ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।
পাশাপাশি ইলিশ শিকারে ব্যবহৃত প্রায় দুই লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে গেলে জেলেরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালান।
তিনি বলেন, আটক ৪১ জনকে আইনের আওতায় আনা হবে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযানকারী পুলিশ সদস্যরা ফিরে এলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য গত ৮ অক্টোবর থেকে নদীতে ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
এরপরও শরীয়তপুরের জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নদীতীরবর্তী অন্তত ২৫টি স্থানে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।
এসব এলাকায় ক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও অবৈধভাবে ইলিশ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বর্তমানে নদীতে যাঁরা মা ইলিশ শিকার করছেন, তাঁদের নিবন্ধিত জেলে না হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ কারণে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে অংশ নিয়েছেন বলে জানান।
মা ইলিশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও বলেন সংসদ সদস্য।
এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা নদীতে অভিযানে অংশ নেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ।
তিনি স্পিডবোটে নদীর বিভিন্ন এলাকায় টহল দেন।
এ সময় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও নৌকা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মাছ শিকারের প্রস্তুতি নেওয়া জেলেদের নদীতে না নামার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩৩ হাজার।
তাঁদের মধ্যে ২৮ হাজার ৯২৯ জন ইলিশ শিকার ও বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে সংশ্লিষ্ট জেলেদের খাদ্যসহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর গত ১০ দিনে ২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এসব অভিযানে ৭২ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।