ঘরে দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ, কয়েকটি বাতি আর একটি আইপিএস। এসব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত এক থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। অথচ সেপ্টেম্বর মাসে সেই বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা!
অস্বাভাবিক এই বিদ্যুৎ বিলের ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে।
এত বড় অঙ্কের বিল হাতে পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি।
তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুলবশত এমন বিল তৈরি হয়েছে। মিটার পরীক্ষা করে বিল সংশোধন করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে তাঁদের বিদ্যুৎ বিল এসেছিল মাত্র ১ হাজার ৩২৬ টাকা।
এর আগের কয়েক মাসেও বিলের পরিমাণ ছিল কাছাকাছি।
কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের বিল হাতে পাওয়ার পর দেখা যায়, ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা।
যে বিদ্যুৎ মিটারে এই বিল এসেছে, সেটি শহীদুল ইসলামের দাদা প্রয়াত আবু তাহেরের নামে রয়েছে। বর্তমানে মিটারটি ব্যবহার করেন শহীদুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার।
শহীদুল ইসলাম জানান, তাঁদের বাড়িতে ফ্যান, বাতি, ফ্রিজ ও আইপিএস ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় না।
আগের পাঁচ মাসে তাঁদের গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল ১৮৭ ইউনিট।
অথচ সেপ্টেম্বর মাসের বিলে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ইউনিট।
এত বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শহীদুলের অভিযোগ, বিল প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে।
শহীদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ বিল হাতে পাওয়ার পরপরই বিল বিতরণকারী কর্মীর কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন।
তখন ওই কর্মী তাঁকে ভুল সংশোধনের জন্য পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শহীদুল।
তিনি বলেন, ‘তারা ভুল করবে, আর আমরা তা সংশোধনের জন্য তাদের দরজায় দরজায় ঘুরব, এটি কোন ধরনের কথা।’
ভুল বিল তৈরির জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া গেছে।
প্রথমে তিনি জানান, বিলের কপি না দেখে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
পরে বিলের কপি দেখার পর তিনি স্বীকার করেন, ভুলবশত অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে।
জুনায়েদুর রহমান জানান, শিগগিরই পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে মিটার পরীক্ষা করবেন।
পরীক্ষার পর সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল সংশোধন করে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
শহীদুল ইসলামের দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও এমন অস্বাভাবিক বিলের কারণে তাঁকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
তিনি চান, দ্রুত সঠিক বিল নির্ধারণের পাশাপাশি ভুলের জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিল সংশোধনের আশ্বাস দিলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংশোধিত বিল দেওয়া হয়েছে কি না, সে তথ্য পাওয়া যায়নি।