মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

১ নভেম্বর থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন, লাইসেন্স

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬৮ জন সংবাদটি দেখেছেন

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ জন্য আবেদন করা যাবে। নতুন নিয়মের আওতায় রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, খাদ্য আমদানিকারক এবং বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও আসছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে ভোক্তারা পণ্যের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারবেন এবং নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে অভিযোগও জানাতে পারবেন।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং নতুন প্রবিধানমালার আওতায় নির্ধারিত খাদ্য ব্যবসার জন্য ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যের নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রবিধানমালার তফসিল অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৬ ধরনের খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিবন্ধন নিতে হবে। অন্যদিকে, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে।

নিবন্ধনের আওতায় থাকছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান ও দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া কাঁচা ও তাজা খাবার ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানিকারক, রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর দোকান, পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও এ নিয়মের আওতায় আসবে।

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত নির্ধারিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স নিতে হবে।

এ ছাড়া জৈব খাদ্য, বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিতে হবে। স্বাস্থ্য সহায়ক দাবি বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি করা খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ‘নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫’-এর বিধানও অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবিধানমালার তফসিল-১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের জন্য প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের জন্য ফরম ৫.১ অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হবে।

নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির প্রচলিত খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা হবে। সুপারফুড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। আর ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের ফি ৬০ হাজার টাকা।

নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে খাদ্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com