মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

সাজেকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর আটকে গোলাগুলি, পাহারায় খাগড়াছড়ির পথে ২ হাজার পর্যটক

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬৬ জন সংবাদটি দেখেছেন

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের উজো বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। এর আগে অবরোধে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হলেও উজো বাজার এলাকায় বাধার মুখে পড়েন।

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, অবরোধের কারণে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাড়িবহর উজো বাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বাধা দেন। এতে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো আটকে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান।

এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর উজো বাজার এলাকা ছাড়ে। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয়।

সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন বলেন, সাধারণত সকাল সাড়ে ১০টায় সাজেক থেকে পর্যটকবাহী গাড়ি খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গাড়ি ছাড়তে হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন।

সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি বৃহস্পতিবার থেকে অবরোধ শুরুর ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে বুধবারের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে শুরু করেন। তবে পথে উজো বাজার এলাকায় অবরোধের মুখে পড়েন তাঁরা।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। গত ১১ অক্টোবরও একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে যেতে হচ্ছে। অনেক পর্যটক রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সড়ক অবরোধে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্যও বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com