ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টায় জড়িত প্রধান দুই সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং আলমগীর হোসেন দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সন্দেহভাজনদের ধরতে অর্ধকোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা, সীমান্তে সতর্কতা জোরদার এবং পাসপোর্ট ব্লক করার সিদ্ধান্তের মধ্যেই তারা দেশ ছাড়তে সক্ষম হন।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফয়সাল ও আলমগীরকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখে। তবে সন্দেহভাজনরা নিজেদের ডিজিটাল ডিভাইস (মোবাইল ফোনসহ) সচল রাখলেও সেগুলো নিজেরা বহন করছিলেন না। ভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে এসব ডিভাইস স্থানান্তর করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাজধানী থেকে তারা ময়মনসিংহ হয়ে হালুয়াঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো পাহাড় জেলার তুরা এলাকায় অবস্থান নেন। গতকাল পর্যন্ত তারা সেখানেই ছিলেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। সন্দেহভাজনদের অবস্থান ও পালানোর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্তের একজন চলন্ত রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলি ছোড়েন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন আলমগীর হোসেন। পরে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
হাদি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আজ সোমবার দুপুরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে।