চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে হত্যা, গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আজ শুরু হচ্ছে প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলাটি বিচারাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন বর্তমানে কারাগারে, আর বাকি ৭ জন পলাতক।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, আন্দোলনের চরম সহিংসতার সময় সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করে। এতে ভুক্তভোগীরা যোগাযোগ, সাহায্য ও তথ্য আদান–প্রদানের সুযোগ হারান। পরবর্তীতে নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়
আজ রাষ্ট্রপক্ষের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে বক্তব্য দেবেন।
আরেক আলোচিত মামলায় আজ ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হবে সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা। তিনি এর আগে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন, তাকে র্যাবের TFI সেলে টানা আট বছর ধরে গুম রাখা হয়েছিল। এ সময় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। জেরা শেষে আজকের কার্যক্রম মামলার গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় মোড় নেয়। আন্দোলনের সময় নানান মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, যার ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলা দায়ের হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পরিকল্পিত নির্যাতনের এক ভয়াবহ নজির; আর আসামিপক্ষের দাবি—এ অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।