ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য ও এক আইনজীবীর মধ্যে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান। তিনি জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মীর মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় কনটেন্ট নির্মাতা আরএস ফাহিম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিন তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় ভেতরে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য ও এক আইনজীবীর মধ্যে গোপনে অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আসামিকে মামলায় কিছু সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই লেনদেনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মীর মোশাররফ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আইনজীবী জোরপূর্বক তাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন যাতে তিনি আসামির কাছে খাবার পৌঁছে দেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি এবং ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, যে-ই অপরাধে জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।