কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দাবি করেছেন, নতুন বাজেট ঘোষণার পর এবারই প্রথম বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি। তিনি এটিকে জনগণবান্ধব বাজেটের ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট ঘোষণার পরদিন বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা অতীতে প্রায় নিয়মিত ছিল। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পর এমন কোনো পরিস্থিতি দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বাজেটে বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর কর হ্রাস বা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত ওষুধের ওপর কর সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ায় রোগীরা প্রতি ডায়ালাইসিসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন।
এ ছাড়া হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট ও বাইপাস সংক্রান্ত খরচ কমে আসবে বলেও জানান তিনি। চোখের লেন্সের ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের ফলে বয়স্ক ও অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকরা উপকৃত হবেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাজেটের সমালোচনাকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও স্বাস্থ্যসেবায় কর কমিয়েছে, কিন্তু তামাক ও মদজাতীয় পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করেছে। যারা এই বাজেটের বিরোধিতা করছেন, তারা আসলে কোন বিষয়টির বিরোধিতা করছেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং কৃষি ও শিল্পের প্রসার ঘটানো। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হয়েছে। তবে জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাসহ স্থানীয় নেতারা।
দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল মাতামুহুরী উপজেলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, নতুন পৌরসভা প্রকল্প উদ্বোধন এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা।