রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে কয়েক ঘণ্টার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। পরে মরদেহ দ্রুত হস্তান্তরের দাবিতে স্বজনরা মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ছেলে রিফাত তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। স্বজনদের দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও আগে ভর্তি সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বলা হয়। এ সময় রোগীর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তিনি মারা যান।
রোগীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে মরদেহ মর্গে সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়, এতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়েন।
নিহত নুর নাহার বেগমের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু অভিযোগ করে বলেন, মায়ের মরদেহ বুঝে পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও মরদেহ নামিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ভোর থেকে মায়ের মরদেহ দেখতে না পেরে পরিবার চরম মানসিক কষ্টের মধ্যে ছিল। তাদের একমাত্র দাবি ছিল মরদেহ দ্রুত বুঝে নিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করা।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ নাকচ করেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার পরপরই তার মৃত্যু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে এবং তাদের মারধরের চেষ্টাও করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও অতিরিক্ত লোকসমাগমের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছিল। পরে সেটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।