মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

তিস্তার ভাঙনে ১৫ দিনে নদীগর্ভে ১৯ বাড়ি, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১১৩ জন সংবাদটি দেখেছেন

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গত ১৫ দিনে অন্তত ১৯টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা। ভাঙন অব্যাহত থাকায় দুই শতাধিক পরিবার এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তার তীব্র ভাঙন চলছে। নদীতে পানি কিছুটা কমলেও স্রোত ও বাতাসের কারণে ভাঙনের গতি আরও বেড়েছে। কিছুক্ষণ পরপরই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে জমি ও বসতভিটা।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কাফি বলেন, “চোখের নিমিষে বাড়িভিটা নদী খায়া গেল। চারটা ঘর কোনো রকমে সরিয়ে নিয়েছি। তিনটি আমগাছ আর একটি জামগাছ কাটার আগেই নদীতে চলে গেছে। এই শোক সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ভাঙার তিন দিন পরই আমার বাবা মারা যান।”

স্থানীয় জয়নাল ও মাঈদুল ইসলাম জানান, গত দুই সপ্তাহে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামের অন্তত ১৯টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে বাদাম, আমন ধানের বীজতলা, মরিচ, পাট, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেতও নদীগর্ভে চলে গেছে।

তৈয়বখাঁ গ্রামের রোস্তম আলী বলেন, জীবনে এটি তার পঞ্চমবারের মতো নদীভাঙনের শিকার হওয়া। এবারও আড়াই বিঘা জমির পাট ও আমনের বীজতলা হারিয়েছেন। অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চর বিদ্যানন্দ গ্রামের আবদুল জলিল জানান, ভাঙনের মুখে রয়েছে পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদ। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হবে।

নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার তিস্তাপাড়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে মাঈদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, আশরাফুল হকসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, তার ইউনিয়নের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৪০টি পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩০টি স্থানে দুই লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা বাজেট না থাকায় সেখানে এখনো প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com