রংপুর বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে সেবা কার্যক্রমে চরম অনিয়ম, অরাজকতা ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন সেবাগ্রহীতারা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে আবেদন গ্রহণ না করা, দায়িত্বে অবহেলা এবং অফিস পরিচালনায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগও করেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাসপোর্ট বিতরণ কেন্দ্রের সার্ভার-সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটারে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার বাহিনীর এক সদস্য। সংবাদকর্মীদের ক্যামেরা দেখে তিনি দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর ওই স্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাসপোর্ট বিতরণকারী কর্মী এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এ সময় এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তুচ্ছ অজুহাত দেখিয়ে তার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছিল না। পরে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অফিস সহকারীর মুখোমুখি হলে তিনি পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে আবেদন গ্রহণ করেন এবং এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, দায়িত্বে অবহেলা এবং অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে রংপুর বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক জামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রথমে সংবাদকর্মীদের তার কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগগুলো এড়িয়ে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেন।
সেবাগ্রহীতারা পাসপোর্ট অফিসে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।