প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করলে ক্যানসার হয়—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে অনেকের মধ্যে প্রচলিত। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত শক্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে গবেষকরা। বরং ভুল তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর প্রচারণার কারণেই এ ধরনের বিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) এবং ইউনিভার্সিটি অব লিডসের গবেষকেরা ১ হাজার ৩৩০ জনের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখেছেন, প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি পান বা মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইউরোপিয়ান জার্নাল অব ক্যানসার-এ।
গবেষকদের মতে, প্লাস্টিকের বোতলকে ক্যানসারের কারণ হিসেবে দেখানোর মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে এ ধরনের ধারণা তৈরি করছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ মানসিক চাপকে ক্যানসারের কারণ বলে মনে করেন। এছাড়া ৩৫ শতাংশ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ এবং ৩৪ শতাংশ জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) খাদ্যকে ক্যানসারের জন্য দায়ী বলে বিশ্বাস করেন। তবে এসব ধারণার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
গবেষক ড. স্যামুয়েল স্মিথ বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে মানুষ অনেক সময় প্রকৃত ঝুঁকির চেয়ে অপ্রমাণিত বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ভুল ধারণা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অনেকেই।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ক্যানসার রিসার্চ ইউকে জানিয়েছে, প্রতি ১০টি ক্যানসারের মধ্যে অন্তত চারটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সংস্থাটির মতে, ধূমপান, পরোক্ষ ধূমপান, স্থূলতা, অতিরিক্ত রোদে থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ধূমপান বর্জন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মতো প্রমাণভিত্তিক অভ্যাস অনুসরণ করাই ক্যানসার প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি।