বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন

বেনজীরকে নিয়ে ‘চুপ’ দুবাই পুলিশ, আনুষ্ঠানিক তথ্য দিতে অপারগ

  • সবশেষ আপডেট : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮৩ জন সংবাদটি দেখেছেন

দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না দুবাই পুলিশ।

রোববার (২ আগস্ট) বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে দুবাই পুলিশ জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, এ ধরনের বিষয়ে তারা কোনো তথ্য প্রকাশ করে না।

কালবেলার পক্ষ থেকে ইমেইলে যোগাযোগ করা হলে দুবাই পুলিশ জানায়, এ-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে বেনজীর আহমেদের কোনো নিকটাত্মীয়কে সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করতে হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন বেনজীর আহমেদ। ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পারিবারিক সূত্রের দাবি, মুক্তির পর তিনি ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের দুবাই ত্যাগের অনুমতি নেই। তার পাসপোর্টও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা রয়েছে।

এদিকে, ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তাও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার ভিত্তিতে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সমন্বয়ে তাকে আটক করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দুদক। ওই তদন্তের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে তদন্ত শুরু করে দুদক। অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com