দেশের দুই জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর ও সকালে বগুড়া এবং সিলেটে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় আরও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি নিয়ন্ত্রণহীন যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে অবস্থানরত শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধার আমিরুল, নূর আলম ও বেলাল এবং জয়পুরহাটের তাজমুলের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয় ও শ্রমিকের হাট থাকা সত্ত্বেও এলাকায় কোনো স্পিডব্রেকার বা প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সড়কচিহ্ন ছিল না। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ স্পিডব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু করলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল ওয়াজেদ জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
একই দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত ৯ জন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস এবং সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহতদের মধ্যে সিলেট নগরীর সপ্তম রায় প্রীয়ম, ঢাকার তিন বছর বয়সী শিশু খোজাইফা, লক্ষ্মীপুরের সাইফুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জের শিল্পি পেহেলী ভৈরবীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন। নিহতদের মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
একদিনে দুই জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।