নেত্রকোণায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব-১৪ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গভীর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত রিপন মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা। কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত রিপন বিভিন্ন সময় ওই কিশোরীকে ভিডিও কনটেন্টে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেন। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত ৩০ জুলাই রাতে জরুরি কথা বলার কথা বলে রিপন মিয়া কিশোরীকে মগড়া নদীর উত্তর তীরে ডেকে নেন। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা নেত্রকোণা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই রিপন মিয়া আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তাকে বুঝে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হবে।
এদিকে, অভিযোগ ওঠে যে মামলা দায়েরের আগে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজার এলাকায় একটি সালিশ বৈঠকে অভিযুক্তকে জরিমানা ও এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
তবে ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা এমন ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ধরনের সমঝোতার চেষ্টা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।