রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে সাভারে পরিচালিত পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার রাতে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যাহার করা পুলিশ সদস্যরা হলেন পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ওসমান আলী এবং কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার। তারা নিখোঁজ কিশোরী উদ্ধারের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
নিহত মনোয়ারুল ইসলাম বকশী সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে হলেও তিনি পরিবার নিয়ে সাভারে বসবাস করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী গত ২৩ জুলাই নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীর অবস্থান সাভারের একটি এলাকায় শনাক্ত করে পুলিশ।
এর পর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে পীরগাছা থানার একটি দল সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) সংলগ্ন কোয়ার্টার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সাভার থানা পুলিশও সহযোগিতা করে।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ভবনের ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে তারা সেখানে গিয়ে মনোয়ারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের পরিবার পুলিশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। মনোয়ারুলের ভাই মমদেল হোসেন দাবি করেন, নিখোঁজ কিশোরীর সঙ্গে তার ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল এবং তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিলেন।
তার অভিযোগ, কিশোরীকে উদ্ধারে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে ছাদে মনোয়ারুলের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।
মমদেল হোসেন বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে মনোয়ারুলের মরদেহ নিয়ে পীরগাছা থানার সামনে অবস্থান নেন স্বজন ও এলাকাবাসী। কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।