বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর আবারও আলোচনায় এসেছে বহুল আলোচিত এই মামলা। সম্প্রতি মামলার আসামি অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেফতারের পর নতুন করে তদন্তে গতি এসেছে বলে জানিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে সালমান শাহের পরিবারও দীর্ঘদিনের রহস্য উদ্ঘাটনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
সিআইডি সূত্র জানায়, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাদের মধ্যে সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকও রয়েছেন।
ডনকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার অভিযোগ অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যার ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় ডনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সালমান শাহের ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে অতীতে একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলার এক আসামির জবানবন্দিতে ডন ও আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে। তদন্তে এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিআইডির প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে ঘিরে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় সালমান শাহের মরদেহ। তার প্রকৃত নাম ছিল চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকায় পরিণত হন।
সালমান শাহের মামা আলমগীর কুমকুম বলেন, দীর্ঘ ২৯ বছর পর মামলার একজন আসামি গ্রেফতার হওয়ায় পরিবার কিছুটা আশাবাদী। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে যাদের সন্দেহ করা হয়, তাদের সবার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, মামলার অন্যান্য আসামিদেরও আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সালমান শাহের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। তবে শুরু থেকেই তার পরিবার দাবি করে আসছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
গত প্রায় তিন দশকে বিভিন্ন সংস্থা একাধিকবার তদন্ত করেছে। সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং পরে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এসব প্রতিবেদনের বিরোধিতা করে ধারাবাহিকভাবে আইনি লড়াই চালিয়ে যায় সালমান শাহের পরিবার।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সালে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডিকে।
বর্তমানে সিআইডি মামলার বিভিন্ন দিক পুনরায় যাচাই করছে। তদন্তকারীরা বলছেন, পুরোনো তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং নতুন উপাত্ত একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মৃত্যুরহস্যের জট এবার খুলবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করছে সালমান শাহের পরিবার, ভক্ত এবং দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।