আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের মহান মুক্তিযুদ্ধে কোনো অবদান নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ হাসিনার পরিবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিল।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের একজন বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষক। মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া সন্তানদের নিয়ে বন্দি ছিলেন উল্লেখ করে তাকেও ‘মহান মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ করেননি। কারণ মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের অবদান নাই। না তার পিতার, না তার নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছে।’
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনো মেনে নিতে পারেননি বলেও দাবি করেন রিজভী। তার অভিযোগ, এ কারণেই খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের ওপর বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তারেক রহমান এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তরের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।
রিজভী বলেন, ‘আজকে প্রকারান্তরে একাত্তরকে ছোট করার জন্য, একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তাকেও মুছে ফেলার গভীর চক্রান্ত চলছে।’
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে উদ্দেশ্য কী, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। রিজভী বলেন, ‘কাকে খুশি করতে চাচ্ছেন? নিশ্চয়ই পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন? এই প্রশ্ন আজ জনগণের।’
একটি চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে ১৯৪৭ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরা হলেও জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি স্থান পায়নি।
রিজভী আরও অভিযোগ করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাত্তর ও জুলাইকে তুলনা করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। যারা একাত্তরের ইতিহাসকে মুছে ফেলার বা গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান করছে।