ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের পর হতাশ অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু সেঞ্চুরিও দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি। বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার বলেছেন, প্রথম দিনের পর স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই দেয়নি বাংলাদেশ।
ডারউইনে হার পেছনে ফেলে এবার ম্যাকাইয়ে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় দীর্ঘ অনুশীলনও করেছে দলটি।
অনুশীলনের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গ্রিন বলেন, বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সে তারা বিস্মিত নন। কারণ প্রতিপক্ষের সামর্থ্য সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা ছিল তাদের।
গ্রিন বলেন, ‘এটা আমাদের অবাক করেনি। আমরা জানতাম, তারা ভালো দল। তারা দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছে এবং প্রথম দিনের পর আমাদের সত্যিকার অর্থে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি।’
বাংলাদেশ শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ ধরে রেখেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম দিনের পরই তারা বুঝেছিলেন সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। ম্যাচে ফেরার জন্য অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন চেষ্টা করলেও তা কাজে আসেনি।
ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন গ্রিন। ব্যক্তিগত সাফল্য পেলেও দলের বড় পরাজয়ে সেই সেঞ্চুরি তাকে পুরোপুরি তৃপ্তি দিতে পারেনি।
গ্রিন বলেন, একজন ক্রিকেটার মূলত দলের সাফল্যের জন্যই খেলেন। ব্যক্তিগতভাবে ভালো ফল পাওয়ার পরও দল না জিতলে অনুভূতিটা ভিন্ন হয়।
তার মতে, অস্ট্রেলিয়া যদি আরও ৫০ থেকে ৭৫ রান যোগ করতে পারত, তাহলে ম্যাচে ভালো অবস্থানে থাকার সুযোগ তৈরি হতে পারত। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি।
নিজের সেঞ্চুরির ইনিংস নিয়ে গ্রিন জানান, ব্যাটিংয়ে বাড়তি কিছু করার চেষ্টা না করে নিজের পুরোনো ও সহজ পদ্ধতিতে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। গত কয়েক বছরে ব্যাটিংয়ে কিছু পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও শেফিল্ড শিল্ডে খেলার সময় নিজের স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ফিরে আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন।
ম্যাকাইয়ের মাঠ অবশ্য গ্রিনের জন্য সুখস্মৃতির। গত বছর এখানেই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। পরিচিত মাঠে ফিরে তাই আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার।
গ্রিন বলেন, যে মাঠে ভালো স্মৃতি রয়েছে সেখানে ফিরে আসা সব সময়ই আনন্দের। ম্যাকাইয়ের সুযোগ-সুবিধাকে বিশ্বমানের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার ম্যাকাইয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচের দাপুটে জয় ধরে রেখে স্বাগতিকদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখাই হবে বাংলাদেশের লক্ষ্য।