গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় আতাউর রহমান আতা (৫০) নামে এক চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তাঁর বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুনও মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা। একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর শিমুলতলী এলাকার মির্জানগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে আতাউর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আতাউর রহমান উপজেলার ঘাগটিয়া চালার বাটনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
কাপাসিয়া আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মির্জানগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের শিমুলতলী সড়কের একটি নির্জন স্থান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহতের স্বজন মাসুদ রানা জানান, আতাউর রহমান অত্যন্ত সৎ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তাঁর ধারণা, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রী সেজে দুর্বৃত্তরা তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে আতাউর রহমানের মা জহুরা খাতুন হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরিবারের দুই সদস্যের মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের জন্য পাশাপাশি দুটি কবর খনন করা হয়েছে।
স্বজনদের দাবি, এ ঘটনায় রাসেল নামে একজনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে চারজনকে আটকের বিষয়ে এবং ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মায়ের মৃত্যুর দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ওসি।