রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার রাতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে রংপুর মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পরে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলামের আদালতে তারা জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি সাংবাদিকদের জানান, দুই আসামি ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিচারকের খাসকামরায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
তবে জবানবন্দিতে তারা কী বলেছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, ঘটনার পেছনের কারণ কিংবা কীভাবে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে, এসব বিষয় তদন্তের অংশ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
পরে আদালত দুই আসামিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আইন অনুযায়ী তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রংপুরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করে পরে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে রংপুর মহানগর পুলিশ।