ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের দীর্ঘদিনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংকট নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ)। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে এখনই দেখা দিয়েছে একাধিক জটিলতা। একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অনিশ্চয়তা, পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রমে বিলম্ব, চলমান শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। এসব সমস্যা সমাধানে ১৩ দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ডিসিইউর অধীনে ভর্তি হওয়া ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মাস পার হলেও প্রথম বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। কবে পরীক্ষা হবে, সেটিও নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমের সময় ঘনিয়ে এলেও আগের ব্যাচের ভর্তি ও বিষয় নিশ্চায়নের কাজ এখনো চলছে। ফলে শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জানিয়েছেন, প্রথম বর্ষের পরীক্ষা আগস্টে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি অক্টোবরের আগে সম্ভব নাও হতে পারে। এতে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শেষ হবে, নাকি ডিসিইউতে মাইগ্রেশন করা হবে, তা নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে।
একাংশের আশঙ্কা, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো এখনো পুরোপুরি গড়ে না ওঠায় মাইগ্রেশন করলে সেশনজট ও সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। অন্য অংশ মনে করছে, ডিসিইউর অধীনে গেলে ‘অধিভুক্ত’ পরিচয় ছাড়াই সনদ পাওয়া, সময়মতো পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ এবং স্বতন্ত্র পরিচয়ের সুযোগ তৈরি হবে। অনলাইনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ডিসিইউতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই থাকতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাইগ্রেশন করা উচিত নয়। তাদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি ও নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর শেষ পর্যায়ে এসে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া হলে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চলতি বছরের ১০ এপ্রিল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ বিল পাস হলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রশাসনিক পদ ফাঁকা। স্থায়ী ক্যাম্পাস কোথায় হবে, সেটিও চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে বারিধারা ডিওএইচএসের একটি ভাড়া ভবনে অস্থায়ী কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটও এখনো গঠন হয়নি।
সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীরা ১৩ দফা দাবি তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী শিক্ষক নিশ্চিত করা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মাইগ্রেশন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত, ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স ও আধুনিক ল্যাব সুবিধা, পরিবহন ও আবাসন ব্যবস্থা, গবেষণা তহবিল, বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার এবং সময়মতো পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ।
এ ছাড়া ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাত ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী বিষয় সংযোজন এবং দ্রুত একটি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র বা টিএসসি নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
ডিসিইউর উপাচার্য মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমান শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে যেতে চান কি না, সে বিষয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
শিক্ষক ও পরীক্ষা পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করবে এবং অন্য সমস্যাগুলোও সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত মাইগ্রেশন ও পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত চান। তাদের দাবি, বিশেষ করে ২০২১-২২ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা দ্রুত শেষ করে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত করতে হবে।