রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আগের তদন্তের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) নতুন কমিশনার মাহবুবুর রশীদ। তিনি বলেন, তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা সূত্র পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুক্রবার সকালে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি মাছুয়াপাড়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাহবুবুর রশীদ বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাই ঘটনাটির বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামতের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।
ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন নতুন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রংপুরে এ বিষয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রথমদিকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদকসেবনের বিষয়টি সামনে আনা হয়।
তবে পরবর্তীতে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, পূর্বপুরুষের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধও এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।