বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

রংপুরে চার খুন: প্রধান অভিযুক্তের বাবা-ভাই ডিবি হেফাজতে

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮৫ জন সংবাদটি দেখেছেন

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় চন্দ্র দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাদের রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।

এদিকে একই দিন চার হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘খবরের কাগজ’ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পার্থ দাসের বিরুদ্ধে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর কয়েক দিন ধরে বিনয় চন্দ্র দাস ও পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে যেতে বলা হচ্ছিল। তবে তারা সেখানে যেতে রাজি হননি। শনিবার বিকেলে পুলিশ তাদের বাড়িতে গেলে পার্থ দাস আবারও যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ঘরের ভেতরে অবস্থান নেন। পরে দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা তাদের বাসায় গিয়ে বলে এসেছিলাম, আপনারা একটু আসেন; আপনাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। কিন্তু তারা আসেননি। তারা বারবার বলেছেন, আমরা কেন যাব। তারা এখন আমাদের কাছে আছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

হত্যাকাণ্ডে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। বাড়ির সঙ্গে বাড়ি, তার ছেলে ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব, তারপর সিদ্ধান্ত।’

সাংবাদিক সেলিম সরকারের ভাষ্য, শনিবার বিকেলে তিন সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চার হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে ঘটনাস্থলে যান। পরে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেল আটকে চাবি কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সেলিম সরকারের অভিযোগ, এরপর পার্থ দাস চিৎকার করে আশপাশের লোকজন জড়ো করেন এবং উপস্থিত লোকজনের সামনে তাকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে তার ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে হেনস্তা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে ডিবি সদস্যরা সেলিম সরকারের ব্যাগ তল্লাশি করেন। সেখানে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পরে তাকে সেখান থেকে যেতে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে সমবেত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, পার্থ দাস স্থানীয় লোকজন জড়ো করে সেলিম সরকারকে হেনস্তা করেন। কয়েকজন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও পার্থ তাদের সঙ্গেও উত্তেজিত আচরণ করেন।

‘ঢাকা পোস্ট’-এর নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে পার্থ দাস ও তার বাবা বিনয় দাস বিভিন্ন সময়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিক সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়েছে। পরে ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তার ব্যাগ খুলে দেখেন। ব্যাগে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।’

সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তান আগামী চক্রবর্তী ও প্রিয়ম চক্রবর্তীকে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাসসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ করছে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com