‘কোনো ষড়যন্ত্রকারী, কোনো গুপ্ত শক্তি পীরগঞ্জের উন্নয়নকে দমিয়ে রাখতে পারবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পীরগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আসন্ন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি নিরাপদ পীরগঞ্জ গড়তে ও আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তারেক রহমান যে স্বপ্ন নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ আমরা একটি সুন্দর পীরগঞ্জ বিনির্মাণ করব।’
সমাবেশে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনা করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গুপ্ত শক্তিরা পীরগঞ্জকে প্রহসন করেছে। পকেট থেকে যেভাবে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছে, মহিলাদের যেভাবে ভর্ৎসনা করেছে, ওইসব ভণ্ড প্রতারকদের মুখোশ খুলে দিয়েছে আজকে পীরগঞ্জের মানুষ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়া হবে। কোনো দুর্নীতি হবে না। কেউ যদি তা করে, তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।’
পীরগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে জেলা বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর পীরগঞ্জে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করার পাশাপাশি হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আজকের এই সমাবেশ থেকে বলতে চাই, কোনো ষড়যন্ত্রকারী, কোনো গুপ্ত শক্তি পীরগঞ্জের উন্নয়নকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।’
এর আগে বিকেলে পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে র্যালির আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ নবী পলাশের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এ সময় পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মুস্তাফিজার রহমান সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান বিটুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পীরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়।