রংপুর নগরীর মাসুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার আগে মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে শান্ত দাস ওরফে পুঁটি শান্তর কাছ থেকে ইয়াবা কিনেছিলেন গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। চার হত্যা মামলায় সাক্ষী হিসেবে আদালতে দেওয়া শান্তর জবানবন্দিতে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় শান্ত দাসের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে শান্ত তাঁর কাছ থেকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর ইয়াবা নেওয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। এর আগে গ্রেপ্তারের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শান্তর কাছ থেকে ইয়াবা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তারা ইয়াবা সেবন করেছিলেন। একপর্যায়ে আরও ইয়াবা সংগ্রহ করতে সিদ্ধার্থ নিজের মোবাইল ফোন শান্ত দাসের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ জানান, হত্যাকাণ্ডের রাতে ১২টার পর সিদ্ধার্থ ইয়াবা নিয়ে মুগ্ধকে সঙ্গে করে প্রতিবেশী বন্ধু সীমান্তের বাসায় যান। সেখানে তারা তিনটি ইয়াবা সেবন করেন।
রাত ৩টার দিকে আরও ইয়াবা সেবনের ইচ্ছা হলে কামাল কাছনা এলাকার শান্ত দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। পরে তাঁর কাছ থেকে আরও চারটি ইয়াবা নেন। ওই ইয়াবার বিনিময়ে সিদ্ধার্থ নিজের মোবাইল ফোনটি শান্তর কাছে বন্ধক রাখেন বলে তাদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, চার হত্যাকাণ্ডের পর শান্ত দাস গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। এরপর থেকে পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল। পরে নগরীতে তাঁর সন্ধান পাওয়ার পর মামলার সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতে জবানবন্দি শেষে শান্তকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলী বলেন, ‘সাক্ষী হিসেবে শান্ত দাসকে নিয়ে এসেছি। তিনি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। যা তদন্তের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁকে এখন অফিসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘সাক্ষী হিসেবে শান্ত দাসকে আদালতে তোলা হয়। তিনি যতটুকু জানেন, তা জানিয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।’
শান্ত দাসকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, শান্তকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার বা আসামি করার সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ বলছে, শান্তর দেওয়া জবানবন্দি চার হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলার অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের সঙ্গে তাঁর বক্তব্য যাচাই করে দেখা হবে।