ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী। তাঁর মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাঁধনের অবস্থান, শিশু হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে থাকা, কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় না থাকা এবং নারী হওয়া—এই চার কারণে তাঁকে সহজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন দীপ্তি চৌধুরী।
বাঁধনের ওপর হামলার পেছনে চারটি কারণ তুলে ধরে দীপ্তি লেখেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের অপরাধ—একটি গণঅভ্যুত্থানে তার একটি স্ট্যান্ড পয়েন্ট ছিল, যা ছবির লোকগুলোসহ আরও হাজার হাজার মানুষের আদর্শের সঙ্গে মেলেনি। বাঁধন রাষ্ট্র কর্তৃক শিশু হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে ছিল, প্রোফাইল লাল করেছিল। বাঁধন কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নেই। বাঁধন বেডি মানুষ; তাই সে সবচেয়ে সহজ টার্গেট।’
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দীপ্তি চৌধুরী বলেন, বর্তমানে যারা সরকারে রয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই জুলাই যোদ্ধা। অথচ তাঁর মতো রাজনৈতিক ছায়াহীন সাধারণ নাগরিকদের ‘জুলাই জঙ্গী’ গালি শুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দীপ্তি লেখেন, ‘আমাদেরকে বড় আন্দোলনের সাপোর্ট হিসেবে সাবাস বলা যায়, সহযোদ্ধা হিসেবে আগলে রাখা যায় না।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ও অংশীদারত্ব দাবি করা রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই উপস্থাপক।
তিনি লেখেন, ‘দেখার অপেক্ষায় আছি জুলাইয়ের অংশীদারিত্ব নিয়ে টানাটানি করা রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়।’
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমা নিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে বর্তমানে ইতালির ভেনিসে অবস্থান করছেন আজমেরী হক বাঁধন। তাঁর সঙ্গে ভাই ও ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরাও সেখানে রয়েছেন।
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে জায়গা পেয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। স্থানীয় সময় ৬ সেপ্টেম্বর বেলা সোয়া ২টায় সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।
সিনেমাটির প্রধান চার নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও আজমেরী হক বাঁধন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন।