প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট হারিকেন ‘পোলো’ গত কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় এটি ক্যাটাগরি ৫-এর শক্তিশালী হারিকেনে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মায়ামিভিত্তিক ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) হারিকেনটিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এনওএএ’র হারিকেন হান্টার বিমানের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পোলোর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৭৫ মাইল বা প্রায় ২৮০ কিলোমিটার।
চলতি মৌসুমে জেনিভয়েল ও লয়েলের পর এটি প্রশান্ত মহাসাগরের তৃতীয় ক্যাটাগরি ৫ হারিকেন হওয়ার পথে রয়েছে। স্যাফির-সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৫ হলো সর্বোচ্চ মাত্রা, যেখানে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৫৭ মাইল বা ২৫৩ কিলোমিটারের বেশি থাকে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হারিকেনটি মেক্সিকোর সিহুয়াতানেজো শহর থেকে প্রায় ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর অবস্থান করছিল। এনএইচসির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
হারিকেন পোলোকে ঘিরে মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। উত্তাল সমুদ্র, কালো মেঘ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক সৈকত ফাঁকা হয়ে গেছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় সাময়িকভাবে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া উপকূলীয় এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আলবেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্টেন এল. করবোসিয়েরা বলেছেন, ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকার ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ঝড়।’