মাকে মারধর করা ইসলামের দৃষ্টিতে শুধু একটি সামাজিক অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত গুরুতর গুনাহ। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের কী করা উচিত, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা বিমানবন্দরের জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের।
সম্প্রতি এক প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন জানতে চান, তার এক ভাই নিয়মিত মাকে মারধর করেন। এ অবস্থায় তার করণীয় কী?
জবাবে মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, ইসলামে অন্যায় দেখলে তা প্রতিহত করার নির্দেশ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ অন্যায় দেখলে সে যেন হাত দিয়ে তা প্রতিরোধ করে, তা সম্ভব না হলে মুখে প্রতিবাদ করে এবং সেটিও সম্ভব না হলে অন্তরে ঘৃণা করে। এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর।
তিনি বলেন, মায়ের ওপর নির্যাতন হলে প্রথম দায়িত্ব হলো তাকে রক্ষা করা। নির্যাতনকারীকে বাধা দেওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া পরিবারের সদস্যদের ঈমানি দায়িত্ব।
মাকে মারধরের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেওয়া। পরিবারের প্রবীণ সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে বিষয়টি জানানো। সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের সম্পৃক্ত করা। নির্যাতনকারীকে ইসলামের শিক্ষা ও পরিণতি সম্পর্কে বোঝানো। পরিস্থিতি গুরুতর হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া।
মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, ইসলামে মজলুমকে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং মায়ের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও বৈধ।
তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহ তাআলা কোরআনে নিজের ইবাদতের নির্দেশের পরপরই মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের কথা বলেছেন। সূরা বনি ইসরাইলে বলা হয়েছে, মা-বাবাকে ‘উফ’ শব্দটিও বলা যাবে না এবং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় কথা বলতে হবে।
ইসলামি শিক্ষায় মা-বাবার অবাধ্যতাকে অন্যতম বড় গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদিসে মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কঠিন পরিণতির কথা উল্লেখ রয়েছে।
মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, মায়ের গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করে এবং ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। তাই এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি সবাইকে মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের সন্তুষ্টির মধ্যেই রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ।