২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্পেনের শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও লিওনেল মেসিকে খুঁজে নিয়েছিলেন লামিন ইয়ামাল। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে জড়িয়ে ধরার সেই মুহূর্তটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। এবার সেই আলিঙ্গনের পেছনের গল্প নিজেই জানিয়েছেন স্পেনের তরুণ তারকা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘ফুটবলের জন্য আপনি যা কিছু দিয়েছেন, তার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।’
তিনি জানান, মেসির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই ফাইনাল শেষে তাঁর কাছে গিয়েছিলেন।
ইয়ামাল বলেন, ‘ছবির জন্য সুন্দর দেখাতে আমি কিছু করি না। এটা ভেতর থেকে এসেছিল।’
বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির সঙ্গে ইয়ামালের সেই আলিঙ্গন নতুন মাত্রা পায় একটি পুরোনো ছবির কারণে। ২০০৮ সালে ইউনিসেফের একটি ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা ছবিতে দেখা যায়, শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করাচ্ছেন মেসি। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে শুরুতে ছবিটি প্রকাশ্যে আসুক, তা চাননি ইয়ামাল নিজেই।
তিনি জানান, তাঁর বাবা একবার ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু তখনই সেটি সরিয়ে নিতে বলেছিলেন তিনি।
ইয়ামালের ভাষায়, ‘আমি বাবাকে ছবিটি সরিয়ে নিতে বলেছিলাম। কারণ তখন থেকেই মেসির সঙ্গে তুলনা শুরু হয়ে যেত। আমি লামিন হতে চেয়েছিলাম, মেসি হতে চাইনি। আমি শুধু নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছাতে চেয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাবাকে বলেছিলাম, অপেক্ষা করো। যখন আমি লামিন হয়ে উঠব, তখন যা খুশি করতে পারো।’
মেসির সঙ্গে তুলনা এড়িয়ে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এগিয়েছেন ইয়ামাল। সেই লক্ষ্য পূরণেও সফল হয়েছেন স্পেনের এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ১৯ বছর বয়সেই তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত হয়েছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ইয়ামাল। আর বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মেসিকে জড়িয়ে ধরে বলা সেই একটি বাক্য যেন ফুটবলের দুই প্রজন্মের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে রইল।