মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মারাকেশের মেয়র ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরি। সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন দল বিজয়ী হওয়ার পর দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাজকীয় মন্ত্রিসভার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৫০ বছর বয়সী ফাতিমা এল মানসুরিকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি মরক্কোর আবাসনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিয়োগের পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এল মানসুরি এ ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “এটি সত্যিই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো মরক্কোর একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, দেশের সব নারীর জন্যই গর্বের বিষয়।”
ফাতিমা এল মানসুরির নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থি অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) পার্লামেন্টের ৩৯৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ৯৭টি আসন পেয়েছে।
দলটি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ৩১টি বেশি আসন অর্জন করলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮ আসনের অনেক নিচে রয়েছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করতে হবে পিএএমকে।
সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পরই রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন এল মানসুরি।
তিনি বলেন, “কাজ আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। প্রথমে আমাদের দলের ভেতরে আলোচনা হবে, এরপর অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করব।”
ফাতিমা এল মানসুরি ২০০৮ সালে অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টিতে (পিএএম) যোগ দেন। দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বর্তমান রাজকীয় উপদেষ্টা ফুয়াদ আলী এল হিম্মা।
২০০৯ সালে তিনি মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে এক মেয়াদ দায়িত্ব হারালেও ২০২১ সালে আবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে মরক্কোর রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরি।