মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

৮৭ টাকার মাল্টা বাজারে ৫২০ টাকা, শুল্ক-করেই যোগ হচ্ছে ১০৭ টাকা

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮৫ জন সংবাদটি দেখেছেন

দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে আমদানি করা মাল্টার বড় অংশ দেশে আসছে প্রতি কেজি প্রায় ৮৭ টাকা দরে। অথচ চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সেই মাল্টাই বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ আমদানি মূল্যের তুলনায় ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়েছে পাঁচ গুণেরও বেশি।

আমদানি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাল্টার দাম বাড়ার বড় একটি অংশ তৈরি হচ্ছে আমদানি পর্যায়েই। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পরিবহন, বন্দর ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ডেঙ্গুর প্রকোপে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

বাংলাদেশ কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, কমলা ও মাল্টাজাতীয় তাজা ফল আমদানিতে মোট করভার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও অগ্রিম আয়কর রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আমদানি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি কেজি মাল্টার গড় আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা। এর ওপর শুল্ক-কর দিতে হয় প্রায় ১০৭ টাকা। ফলে বন্দর থেকে খালাসের সময় প্রতি কেজি মাল্টার ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৯৩ থেকে ১৯৪ টাকা।

এর সঙ্গে বন্দর থেকে গুদামে পরিবহন, কনটেইনার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ হয়ে আরও ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়ে। ফলে সরাসরি হিসাবেই ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২০৪ থেকে ২০৯ টাকা কেজি।

তবে আমদানিকারকদের দাবি, পচনশীল ফল হওয়ায় নষ্ট হওয়া, কনটেইনার ও বন্দরসংক্রান্ত অতিরিক্ত খরচসহ প্রকৃত ব্যয় কেজিতে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

উচ্চ শুল্ক-কর আরোপের পর দেশে মাল্টার আমদানি ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে ২ লাখ ৯৪ হাজার টন মাল্টা আমদানি হয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ২ লাখ ২০ হাজার টনে নামে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি আরও কমে ১ লাখ ৭৩ হাজার টনে দাঁড়ায়।

পরবর্তী অর্থবছরে ১ লাখ ৬৮ হাজার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৫৩ হাজার টন মাল্টা আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রায় তিন মাসেও আমদানির ধারা নিম্নমুখী। এ সময়ে দেশে প্রায় ২১ হাজার টন মাল্টা এসেছে।

বন্দর থেকে খালাসের পর মাল্টা যায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার পাইকারি বাজারে। সেখান থেকে আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতার হাত ঘুরে ভোক্তার কাছে পৌঁছায়।

চট্টগ্রামের ফলমন্ডির ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পরে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ১৫ কেজির একটি কার্টন ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

রেলওয়ে মেন্স সুপার মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী মো. বাবুল বলেন, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত অনেক আমদানিকারক লোকসান করেছেন। এতে পরবর্তী সময়ে আমদানি কমে যায়। সেপ্টেম্বরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্রুত বেড়েছে। তবে নতুন চালান আসায় দাম আবার কমতে শুরু করেছে। সরবরাহ বাড়লে আগামী সপ্তাহে দাম আরও কমতে পারে।

মাল্টা আমদানিকারক এইচআর করপোরেশনের কর্ণধার মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন বলেন, শুল্ক-কর, বন্দর মাশুল ও কনটেইনার পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ বেড়েছে। তবে আমদানিকারক বা পাইকারি পর্যায়ের দামের তুলনায় খুচরা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।

একসময় আমদানি করা ফলের ওপর বর্তমানের তুলনায় কম করভার ছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের মোট করভার ছিল প্রায় ৮৯ শতাংশ।

ডলার-সংকটের মধ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০২২ সালের মে মাসে ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে করভার আরও বাড়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একপর্যায়ে তা ১৩৬ দশমিক ২০ শতাংশে উঠেছিল। পরে কমিয়ে বর্তমানে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ করা হয়েছে।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মাল্টার দাম অপরিবর্তিত থাকলেও উচ্চ শুল্ক-কর ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে দেশে পৌঁছানোর আগেই এর দাম দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাচ্ছে।

ডেঙ্গুতে বেড়েছে চাহিদা

মাল্টার দাম বাড়ার আরেকটি কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা ডেঙ্গুর প্রকোপে চাহিদা বৃদ্ধির কথা বলছেন। জ্বর ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য মাল্টা ও কমলার মতো ফল কেনার প্রবণতা বাড়ায় বাজারে চাহিদা বেড়েছে।

সরবরাহ কম থাকার সময়ে এই বাড়তি চাহিদা দাম আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ফলে একদিকে উচ্চ শুল্ক-কর, অন্যদিকে আমদানি কমে যাওয়া ও বাড়তি চাহিদার কারণে সাধারণ ক্রেতার জন্য মাল্টার দাম এখন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com