মুহুরী নদীর টেকসই খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং সার্বিক পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া সেল জানায়, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এবং আধুনিক ড্রেজিং মেশিন চালু করে নদী খনন কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন। পরে পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে নদীতীরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা আমার নানা বাড়ির এলাকা। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি শুধু বেড়াতে আসিনি, এই এলাকার উন্নয়ন করা আমার দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং সরকার সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। আইনের শাসন নিশ্চিত করে দেশের সব নাগরিকের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে উন্নয়নের রাজনীতি।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ অতীতে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে অবগত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সরকারের এই উন্নয়ন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পটির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি এলাকাবাসীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মুহুরী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।