মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

রংপুরে ওএমএসের চাল-আটা নিতে দীর্ঘ লাইন, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১২৯ জন সংবাদটি দেখেছেন

রংপুর নগরীতে খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) চাল ও আটা কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পণ্য না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। এ সময় ওএমএসের পণ্য বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও ডিলারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বৈরাগী পাড়া এলাকায় ওএমএসের একটি ট্রাক সেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওএমএসের ট্রাকে জনপ্রতি ২৪ টাকা দরে সর্বোচ্চ ৫ কেজি আটা এবং ৩০ টাকা দরে ৫ কেজি চাল বিক্রির কথা। কম দামে এসব পণ্য পাওয়ার আশায় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকেই বৈরাগী পাড়া এলাকায় ভিড় করতে শুরু করেন নারী-পুরুষ।

ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও অনেকে পণ্য পাননি। তাদের দাবি, নির্ধারিত লাইনে থাকা ক্রেতাদের পাশাপাশি ডিলারের পরিচিত ও পছন্দের লোকজনকে পণ্য দেওয়া হয়েছে। পরে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে গেছে বলে জানানো হলে অপেক্ষমাণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কয়েক দফা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ওএমএসের ট্রাকের সামনে একটি লাইনের পরিবর্তে একাধিক লাইন তৈরি হয়েছে। ফলে কে আগে পণ্য পাবেন, তা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

কামাল কাছনা এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, “ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চাল-আটা পাইনি। এটা ডিলারের কারসাজি। চাল-আটা না পেলে আজ বাসায় রান্না হবে না।”

বৈরাগী পাড়ার বাসিন্দা সুজা মিয়া বলেন, “সকাল ৯টা থেকে অপেক্ষা করছি। একটি লাইনের জায়গায় চারটি লাইন করা হয়েছে। কাকে দিচ্ছে, কারা পাচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছি না।”

একই অভিযোগ করেন নুরপুর, স্টেশন রোড ও আলমনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ওএমএসের পণ্য কিনতে আসা আরও কয়েকজন।

তবে স্বজনপ্রীতি বা কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওএমএস ডিলারের ব্যবস্থাপক রমজান আলী। তিনি বলেন, “আমরা ১ টন চাল ও ১ টন আটা বরাদ্দ পেয়েছি। এই পরিমাণ পণ্য দিয়ে সর্বোচ্চ ২০০ জনকে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু লাইনে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ ছিলেন। বরাদ্দ কম থাকায় সবাইকে পণ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখানে কোনো কারসাজি করা হয়নি।”

ঘটনাস্থলে থাকা খাদ্য বিভাগের তদারককারী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ কম থাকায় সবাইকে পণ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কম দামে চাল-আটা কিনতে মানুষের চাপ বেড়েছে। বরাদ্দ বাড়ানো হলে আরও বেশি মানুষকে ওএমএসের পণ্য দেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে, ওএমএসের পণ্য বিতরণে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সরকারি ভর্তুকির পণ্য পৌঁছে দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com