রংপুর বিভাগে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের আট জেলায় নতুন করে ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও একজন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত রুমি বেগম (৩৫) রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি টানা আট দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার রাতে রমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচজন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দুজন এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রুমি বেগম গত সোমবার রমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি ঢাকা থেকে আসা আত্মীয়-স্বজনদের দেখাশোনা করছিলেন রুমি। স্বজনরা ফিরে যাওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। প্রথমে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে রমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ৭৫ জনের মধ্যে রংপুর জেলায় ৩২ জন, দিনাজপুরে ৪ জন, নীলফামারীতে ১৩ জন, লালমনিরহাটে ১০ জন, গাইবান্ধায় ৩ জন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩ জন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫২২ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ২৮৮ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২২৬ জন রোগী।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে হবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।