নিজের সম্মতি ছাড়াই নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রংপুর জেলা কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ করেছেন তারাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রাজু মিয়া। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রলীগের সব পদ-পদবি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রংপুরে সংবাদ সম্মেলন করে রাজু মিয়া এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাজু মিয়া বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে থেকেই তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি থেকে দূরে আছেন।
রাজু মিয়ার ভাষ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, সম্প্রতি ঘোষিত রংপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে তাঁকে সদস্য করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ওই কমিটিতে কোনো পদ পাওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেননি। কমিটিতে থাকার বিষয়ে সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতার সঙ্গে তাঁর আলোচনাও হয়নি।
রাজু মিয়া বলেন, ‘আমার কোনো সম্মতি, অনুমতি কিংবা অবগতির বাইরে কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা বিব্রত হয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সব পদ-পদবি এবং আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন রাজু মিয়া।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তাঁর নাম ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, প্রচারণা বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে এর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না।
রাজু মিয়া আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোথাও কোনো প্রচারণা চালানো হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। আমি বা আমার পরিবার এর দায় নেব না।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজু মিয়ার শ্বশুর মুকুল সরকার। তিনি দাবি করেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
মুকুল সরকারের ভাষ্য, কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা ‘ভুল বুঝিয়ে’ তাঁর জামাতাকে ছাত্রলীগের কমিটিতে যুক্ত করেছিলেন। এখন তিনি ছাত্রলীগের পদ-পদবি ও কর্মকাণ্ড থেকে সরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। এ জন্য প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতাও চান মুকুল সরকার।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজা মিয়া বলেন, রাজু মিয়া ছাত্রলীগের রাজনীতিতে কখনোই সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না। পদত্যাগের ঘোষণার বিষয়ে রাজা মিয়া বলেন, এটি রাজু মিয়া ও তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
তবে রাজু মিয়ার সম্মতি ছাড়া রংপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কি না এবং কমিটি গঠনের আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে তারাগঞ্জের আরেক ছাত্রলীগ নেতাও তাঁর অনুমতি ছাড়া রংপুর জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। তিনিও সংগঠনের পদ-পদবি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
অল্প সময়ের ব্যবধানে একই উপজেলার দুজনের এমন অভিযোগ সামনে এলো।