দিনাজপুরের হিলি বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের ক্রেতারা।
রোববার (৪ অক্টোবর) হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আগের তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও অধিকাংশ দোকানেই পণ্যটি পাওয়া যাচ্ছে।
বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা রুহুল আমিন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। আগে ৩৫ টাকায় যে পেঁয়াজ কিনতেন, এখন নিম্নমানের পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং ভালো মানের পেঁয়াজ ৪৫ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, হিলির অধিকাংশ মানুষ শ্রমজীবী। পেঁয়াজের দাম কম থাকলে তাদের জন্য সুবিধা হয়, দাম বাড়লে প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হয়।
আরেক ক্রেতা আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমরা গরিব, দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষ। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ টাকা, এখন বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে। কোথাও কোথাও ৪৫ টাকা। এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে আমরা কীভাবে বাঁচব?’
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমরা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। এখন পাইকারি বাজার থেকেই ৪০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কম ছিল। কয়েকদিন ধরে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা বাজারে কম পেঁয়াজ আনছেন। এতে সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, বাজারে কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে বিষয়টি নজরদারি করা হচ্ছে। বিভিন্ন হাট-বাজারে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের ক্যাশমেমো যাচাই করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে নিত্যপণ্যের বাজারে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।