দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাত্র এক টাকার বিনিময়ে পাঠদান করে আসছেন গাইবান্ধার ‘এক টাকার শিক্ষক’ খ্যাত লুৎফর রহমান। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পেয়েছেন অবসর ভাতা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে দুই লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন ও যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত শিক্ষকদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এবারের সম্মাননা নির্বাচনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট বিচারক ও সার্চ কমিটি দায়িত্ব পালন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লুৎফর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র এক টাকা ফি নিয়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা দিয়ে আসছেন। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের কারণে তিনি দেশজুড়ে ‘এক টাকার শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
স্থানীয়দের মতে, জাতীয় পর্যায়ে এ সম্মাননা শুধু লুৎফর রহমানের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি গাইবান্ধার জন্যও গর্বের। তার জীবনব্যাপী শিক্ষাসেবা প্রমাণ করে, মানবিক দায়বদ্ধতা ও শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা থাকলে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।