রংপুর নগরীতে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় নতুন তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা রক্তের দাগসহ বিভিন্ন আলামতের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাব থেকে ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের হাতে পৌঁছায়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে রক্তের দাগসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সিআইডি। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের রক্তের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলী গত ২৯ সেপ্টেম্বর এসব নমুনা ও আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের ফরেনসিক ল্যাবে পাঠান।
সেখানে রাসায়নিক ও ডিএনএ পরীক্ষা শেষে প্রস্তুত করা প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার তদন্তকারী সংস্থার কাছে পৌঁছায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা এটিকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
গত ২০ আগস্ট রংপুর নগরীর কামালকাছনা দাসপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫৫), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১১) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট ভোরে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তদন্তের অগ্রগতি ও হত্যার কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল। ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানিয়েছিলেন কয়েকজন আইনজীবী ও নাগরিক প্রতিনিধি।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়া ভট্টাচার্য এবং রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ডিএনএর মিল পাওয়ায় মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যুক্ত হয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডে আরও কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা কিংবা মদদ রয়েছে কি না, তা চূড়ান্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।