শিল্প, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে রংপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রিলয় আর্ট একাডেমির আয়োজন ‘সৃজনের মেলবন্ধন’। শনিবার (১০ অক্টোবর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে শিশুদের জন্য সচেতনতামূলক সেশনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে একাডেমির বিভিন্ন বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নেয়। তাদের সৃজনশীল কাজ প্রদর্শনের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিশুদের মানসিক সুস্থতা, আবেগ শনাক্ত করা এবং অনুভূতি প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশেষ সেশনের আয়োজন করা হয়। এতে শিশুদের আবেগ চেনা, নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ এবং ‘ট্রি অব লাইফ’ (Tree of Life) আঁকার মাধ্যমে আত্ম-অনুসন্ধান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং পরিবারে নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেশনটি পরিচালনা করেন সাইকোচ বাংলাদেশের কুঞ্জছায়া ইনিশিয়েটিভের সদস্য ফাহিম শাহরিয়ার ও আবিদা সুলতানা রুকু। এতে সহযোগিতা করে রংপুরের স্থানীয় মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠন প্রযত্নে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের আঁকা বিভিন্ন শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া সুন্দর হাতের লেখা, গল্প বলা ও বুক রিভিউ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা, পাঠাভ্যাস, চিন্তাশক্তি ও আত্মপ্রকাশের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বপূর্ণ অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিয়মিত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে ‘শ্রেষ্ঠ উপস্থিতি’ অর্জনকারীদের বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারমাইকেল কলেজ, রংপুরের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম, দর্শনা বাছিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান বকুল, একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক মো. নবীব হোসেন লাভলু এবং কবি ও আবৃত্তিকার মেহেদি হাসান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ত্রিলয় আর্ট একাডেমি, রংপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মোছা. আসমা আইরিন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এমএফএ ও বিএফএ ডিগ্রিধারী।
পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকেরা জানান, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশ, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।