সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, যাঁদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেওয়া সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক হামলার জবাবে রিয়াদের বিমানবন্দরে এই হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলা।
সর্বশেষ হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং ফ্লাইটগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা থেকে কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় এবং আহতদের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ মিশন।